রাত ঠিক ১টার দিকে ৩ জনের শেষ দলটা বাড়ির পিছনদিক ঘুরে হালট ধরে একসঙ্গে চষাভূমির ভিতরে নেমে গেলো। বিঘাখানেক ন্যাড়া ভূঁই আড়াআড়ি পাড়ি দিলেই খেতের মাঝখান দিয়ে সরু আলপথ। পথটা এমন সরু যে এই পথে ২ জন পাশাপাশি হয়ে হাঁটা যাবে না- আগপাছ করে হাঁটার নিয়ম। আলপথ ধরে নদীর পাড় পর্যন্ত দুই পাশে বিস্তীর্ণ গমখেত। নিস্তব্ধ জোছনার রূপালি আলোর মধ্যে চকচকে গমের শিষ কেমন সোনার মতো রঙ। মাথার উপরে তাকালেই নক্ষত্রের ঘন বুননে ঠাসা ঝলমলে আকাশ। আকাশে সোনালি ধানের মতো বিন্দু- বিন্দু আলোর কণা।
আবার চারদিকটা তখন এই রকম যে কোথাও মানুষের কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছে না। দূরের দিকে তাকালে গমখেতের বেশ খানিকটা উপরে আকাশের ঢালে সাদা রঙের এক টুকরা গোল চাঁদ। চাঁদটা দীর্ঘ এক পথ পাড়ি দিয়ে ঘুমন্ত গ্রামটার দিকে নেমে যাচ্ছে অলক্ষে। ধীরে-ধীরে ম্লান হয়ে আসছে জোছনার রঙ, তবু প্রান্তর-জুড়ে এখনো আশ্চর্য এক প্রভা। দূর থেকে কালো গ্রামটাকে কেমন আবছা ও ভুতুড়ে দেখাচ্ছে, আকাশটাকে মনে হচ্ছে একেবারেই হাতের নাগালে, খুব যেন কাছে। আর চৈত্রের উত্তপ্ত দিনশেষে রাতের এই-যে এক মোলায়েম নাতিশীতোষ্ণতা,