এ উপন্যাসে বিশ শতকের প্রথম থেকে আরম্ভ করে পাঁচের দশক পর্যন্ত জাতীয় আন্দোলনের ছবি আঁকা ছিল সতীনাথের উদ্দেশ্য, ছিল তাৎমাদের (ঢোঁড়াই-এর সমাজ) ব্যক্তি ও জাতীয় চেতনার উন্মেষ দেখানো। কেননা, এতে আছে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ঘটনা। সেটা যেতে না যেতেই পরপর এসেছে গান্ধীর লবণ সত্যাগ্রহ, আইন-অমান্য; সমান্তরাল বিপ্লবী সংগঠন, আবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, সোশ্যালিস্ট কম্যুনিস্ট সংস্পর্শ। আবার আছে নিরক্ষরতা, জমিদার আধিয়ার সম্পর্ক, অস্পৃশ্যতা প্রভৃতি সামাজিক অর্থনৈতিক সমস্যার কথাও। এছাড়াও প্রতিপাদ্য হয়ে উঠেছে সাধারণ লোক কেমন করে ভুল-ভ্রান্তির মধ্য দিয়ে মানুষ হিসেবে নিজেদের অধিকার বুঝে নিচ্ছে―সেই সমাজসত্য এবং মানুষ বদলাচ্ছে পরিবেশকে, পরিবেশ বদলাচ্ছে মানুষকে, মানব-ইতিহাসের এই গতি-প্রকৃতির সত্যতা। ঐতিহাসিক গতি-প্রকৃতির সঙ্গে সমাজসত্য ও মানবসত্যের প্রকাশে সতীনাথ ভাদুড়ী অবলম্বন করেছেন পুরানো মহাকাব্যের ফ্রেমে ঢোঁড়াই রামকে। ফলে ঐতিহ্য নূতন প্রাণবীজে যুগসত্যের বাহন হয়ে উঠেছে।...
মূলত রামায়ণের কাঠামোর আশ্রয়ে, পাক্কী’র দু’পাশের অর্থাৎ ছোট্ট জিরানিয়া শহর তার নিকটবর্তী গুটি তিনেক নগণ্য জনপদকে নিয়ে লেখা ‘ঢোঁড়াই চরিতমানস’ হয়ে উঠেছে সেই অখ্যাত Anonymous India’র ঘুম ভাঙা নতুন জাগরণের ও বাধাজড়িত পদযাত্রার প্রধান মহাকাব্য! ঠিক এই মহিমা দ্বিতীয় কোনো বাঙলা উপন্যাসের নেই।