বাঙলা কবিতা ব্যাখ্যায় ধ্বনিপ্রতীকতাতত্ত্বের সুশৃঙ্খল প্রয়োগ হয় নি; কোনোকোনো সমালোচক কখনো কখনো বিচ্ছিন্নভাবে ধ্বনি ও ভাবকে মেলানোর চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি ডক্টর সন্জীদা খাতুন 'ধ্বনি থেকে কবিতা' (বিশ্বভারতী গবেষণা প্রকাশনা বিভাগ, শান্তিনিকেতন, ১৯৮৭) গ্রন্থে বাঙলা কবিতা ব্যাখ্যায় ধ্বনিপ্রতীকতাতত্ত্ব প্রয়োগ করেছেন ব্যাপকভাবে। তিনি অবশ্য ধ্বনিপ্রতীকতা কথাটিকে এড়িয়েই চলেছেন; মাত্র একবার এ-শব্দটি ব্যবহার করেছেন সারাটি বইতে; তবে তিনি দেখাতে চেয়েছেন যে ধ্বনি ও কবিতার ভাবের মধ্যে রয়েছে সহজাত সম্পর্ক। আমরা জানি ধ্বনি বা সুরের সাথে সন্জীদা খাতুনের রয়েছে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক; তিনি সমকালের অন্যতম প্রধান রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী। ধ্বনি যে তাঁর জীবনের বাস্তব ও স্বপ্নকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে, তা অনুমান করতে পারি।