চুয়াডাঙ্গা যাইবার বড় রাস্তার দু'পাশে দুইখানি গ্রাম-দক্ষিণপাড়া ও উত্তরপাড়া। দক্ষিণপাড়ায় মাত্র সাত-আট ঘর ব্রাহ্মণের বাস, আর বনিয়াদী কায়স্থ বসু-পরিবার-এ-গ্রামের জমিদার। উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা বিভিন্ন জাতির। ইঁহাদের জমিদারও কায়স্থ। উপাধি-বসু। উভয় ঘরই পরস্পরের জ্ঞাতি। বসুগণ গ্রামের মধ্যে বর্ধিষ্ণু, কিন্তু দুঃখের বিষয়, ইঁহাদের কাহারও মধ্যে সদ্ভাব নাই। রেষারেষি ও মনোমালিন্য লাগিয়াই আছে।
দক্ষিণপাড়ার নিচে 'কুসুম বানীর দ' নামে একটি প্রকাণ্ড পুরাতন জলাশয়ের ভাগ-বাঁটোয়ারা লইয়া উভয় ঘরের মধ্যে আজ প্রায় দশ বৎসর পূর্বে প্রথম ঝগড়ার সূত্রপাত হয়। বড়-তরফের সত্যনারায়ণ বসু একদিন সকালে লোকজন লইয়া সেখানে মাছ ধরিতে গিয়া দেখিলেন, ছোট- তরফের গদাধর বসু অপর পাড়ে তাহার পূর্বেই আসিয়া জেলে নামাইয়া মাছ ধরিতেছেন।
সত্যনারায়ণ বসু তৈফিয়ত চাহিলেন-তিনি বর্তমানে, তাঁহাকে জিজ্ঞাসা না করিয়া গদাধরের এমন আচরণের হেতু কি? গদাধর তদুত্তরে যাহা বলিলেন, সত্যনারায়ণ বসুর পক্ষে তা সম্মানজনক নয়।