আমার মায়ের শত চেষ্টা সত্ত্বেও আমি বা আমার বোনরা রান্নাঘরের পথ মাড়াতাম না। বাবা বলতেন, থাক থাক, লেখাপড়া করছে, সেটাই করুক। তিন কন্যার জননী আমার মা মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে খুব আগ্রহী ছিলেন বলে জোর করতেন না। বাল্যকালে বিয়ে হয়ে যাওয়াতে তাঁর লেখাপড়া হয়নি আর সে ক্ষোভ মেয়েদের দিয়ে পুষিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। অনেক পরে ঠেকে রান্না শিখেছি। খেতে ভালবাসি, তাই নানা রকম রান্না শিখতে এবং সেটা কাছের মানুষদের খাওয়াতে ভালবাসি। সেটা করতে গিয়ে ধীরে ধীরে জানলাম রান্না একটা আর্ট। নানা জনের কাছে নানা ভাবে রান্না শিখেছি। এই গ্রন্থে যেসব রান্না আছে, তার অধিকাংশই কারো না কারো কাছ থেকে সংগ্রহ করা। তাঁদের নাম উল্লেখ না করাটা অকৃতজ্ঞতার পর্যায়ে পড়বে।
সে-ও অনেকদিন হয়ে গেল। আমার বড় বোন নীনা ও দুলাভাই মাহমুদ জামালী মালয়েশিয়ার বাটারওয়ার্থে থাকতে আমি একবার সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ওঁরা দু'জনেই ডাক্তার। সকালে হাসপাতালে চলে গেলে আমি আমার শিশুপুত্র রূপককে নিয়ে বাড়িতে বই পড়ে বা টিভি দেখে সময় কাটাতাম। দুলাভাই সপ্তাহে একদিন পাশের ছোট্ট শহরে রোগী দেখতে যেতেন। আমাদের নিয়ে গেলেন একদিন।