দুই বোন উপন্যাসের শুরু হলো এভাবে-
মেয়েরা দুই জাতের, কোনো কোনো পণ্ডিতের কাছে এমন কথা শুনেছি। এক জাত প্রধানত মা, আর-এক প্রিয়া। এই বক্তব্য উপমায় ও চিত্রে পূর্ণ করে তুলেছেন ৮২টি শব্দের বিস্তারে। কিন্তু এ গল্পে শিল্পকে বাঁধতে পারেনি কোনো বীতংস-লেখার জোর ছাপিয়ে গেছে তাত্ত্বিক অভিপ্রায়কে। এরকম বৈষ্ণব সাহিত্যেও দেখছি, জ্ঞানদাসের অনেক পদই তো ডিঙিয়েছিল 'উজ্জ্বলনীলমণি' আর 'ভক্তিরসামৃতসিন্ধু'-কে।
দুই বোন বিংশ শতকের জল-হাওয়াকে স্বাভাবিকভাবে নিজের মধ্যে শোষণ করে নিয়েছে। সামাজিক পটভূমি এবং পারিবারিক জীবনযাত্রার যে পরিমণ্ডল তা তিনের দশকে তো সত্য ছিলই, এখনও মোটামুটি একই রকম আছে। শুধু আফিসে স্বজনপোষণে সাহেব কর্তার স্থানে এসেছে দেশি মালিকেরা। উচ্চবিত্ত বাঙালির জীবনকথা বলায় রবীন্দ্র-উপন্যাসের স্বাভাবিক প্রবণতা ১৯২৯-য়ে যেসব বৃত্তে ঘোরাঘুরি করছিল, এ লেখাও তার ব্যতিক্রম নয়। নায়ক শশাঙ্ক ইঞ্জিনিয়র, প্রথমে ছিল চাকুরে, পরে কন্ট্রাক্টরি ব্যবসায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত।