গল্প সংক্ষেপ- কেউ যদি জিগ্যেস করে- কতটা ভালোবাসো? চোখের নিচে সাত সমুদ্রের পানি জমা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই জাবিরের। জোয়ানাকে কতটা ভালোবাসে, তা সে নিজেই জানে না। আর ভালোবাসা পরিমাপ করার প্যারামিটার তো নেই মানুষের কাছে, স্মৃষ্টিকর্তার কাছে থাকবে নিশ্চই। জাবির তার আম্মুর উপর অভিযোগ করে বলে- আমার তৃষ্ণা পেয়েছে, আমাকে পানি কিনে দিলেই তো হয়। আম্মু আমাকে পেপসি কিনে দিয়েছে সারাজীবন। পেপসির দাম পানির চেয়ে বেশি, কিন্তু তাতে তো আমার তৃষ্ণার মেটে না। এটা আম্মুকে কে বোঝাবে! চাহিদা থেকে দামি কিছু কিনে দিয়ে আম্মু গৌরব বিলীন, কিন্তু আমার তৃষ্ণা তো থেকেই যায়।
আমরা হয় বুঝতেই পারি না, সত্য কি? সুখ কোথায় থাকে? জাবির ভাবে বই নিয়ে কাজ করবে, একজন আদর্শ প্রকাশক হবে। এই প্রকাশক হওয়াটাকে মা আর জোয়ানাদের বাসার মানুষগুলি দেখে অন্য চোখে। ওতে সংসার চলবে না, উড়ণচন্ডি হয়ে থাকা যাবে। এর মধ্যে গোটা দেশে শুরু হয় কোটা আন্দোলন। বন্ধুদের সাথে জাবিরও জাড়িয়ে পড়ে এ আন্দোলনে। একদিন শোনা যায় জোয়ানার বিয়ে। জোয়ানার কাছে জাবির তার শেষ চিঠিতে বলে- তুমি বলেছিলে, প্রেম বেঁচে থাকে হারানোর বিরহে।
অন্ধকার ঘরে একা বসে কাঁদছে জোয়ানা। হঠাৎ ওর মনে হয়- হয়ত পৃথিবীর সব প্রেমিকে হত্যা করা যাবে, কিন্তু প্রেম হত্যা করার সাধ্য কারো নেই। সময়ের সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, দ্বিধা আর দর্শন- তুলে ধরার চেষ্টা ছিল বইটতে। আমরা কেন ভালোবাসি? আবার কেনই বা কাঁদি? কে যেন বলে- কান্নার আড়ালেই সুখ লুকিয়ে থাকে!
বাতাসের কানে জোয়ানা বলে- আবার যদি ফিরে পাই তোমায়, দুপুরের কমলা রোদে হারাবো একদিন।