আমি সুলেখা সেনগুপ্ত। এটি আমার পোশাকী নাম; আমার বাবা শ্রীযুক্ত রাধা রমণ সেনগুপ্ত রেখেছিলেন। আমি তার একমাত্র মেয়ে। সরকারী হাই স্কুলের শিক্ষক তিনি। কুমিল্লা শহরে তাঁকে সবাই চেনে। আদর্শবাদী মানুষ হিসাবে তার একটা আলাদা জায়গা রয়েছে এ শহরে।
আমি তারই জ্যেষ্ঠ সন্তান। বিয়ে করেছি বাবার অমতে। একটি টসবগে সাহা ছেলের প্রেমে পড়ে ঘর ছেড়েছিলাম রাতের আঁধারে।
যখন ঘর ছেড়েছিলাম তখন বাবার কথা মোটেই মনে হয়নি। তার মান — সম্মান-খ্যাতির কথা একবারও ভাবিনি। অরবিন্দ বলল, 'চল। আমরা ভেগে গিয়ে বিয়ে করি।' আমার বয়স তখন মাত্র চৌদ্দ বছর। ক্লাস টেনে পড়ি। বিয়ের কথা অরবিন্দর মুখে শুনতেই আমার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে উঠল। বুকের ভেতর আনচান করা একটা অনুভূতিও যেন টের পেলাম। বিয়েটা আসলে কি তা আমি অত বুঝিনি তখন। যেটুকু বুঝি তাহল বিয়ে হয়ে গেলেই আমি ওর সাথে একসঙ্গে থাকতে পারব। ওকে দেখতে চাইলে মন আর উচাটন করবে না।