নাগিব মাহফুজ তাঁর লেখক জীবনের সূচনা ঘটান মিশরের প্রাচীন ইতিহাস অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর জন্মভূমির পরিচিতি এবং সময়ের বিপুল ব্যবধান সত্ত্বেও প্রাচীনত্বের প্রেক্ষাপটে আত্মোপলব্ধি করতে ও নিজের পরিমণ্ডল সম্পর্কে জানতে এবং অন্যদের জানাতে চেষ্টা করেছেন। মিশরের যুদ্ধ,সংগ্রাম ও বিপর্যয়ের যুগগুলাতেও তিনি তাঁর দেশের সুদূর অতীত ইতিহাসের সঙ্গে একটি নির্ভরযোগ্য অবস্থানের সন্ধান করে কাটিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ১৯৩৯-৪৫ সালে প্রকাশিত তাঁর তিনটি উপন্যাসই ছিল মিশরের প্রাচীন ইতিহাসের ওপর,যার প্রথমটির নাম ‘আবাথ আল-আকদার’ (‘আইরোনিজ অফ ফেট’ বা ‘অদৃষ্টের পরিহাস’)। উপন্যাসটির মূল আরবি নাম ছিল ‘হিকমাত খুফু’ (দ্য উইজডম অফ খুফু)। ফারাও খুফু মিশরের প্রাচীন রাজবংশের চতুর্থ প্রজন্মের শাসক,যিনি ২৫৭৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২৪৬৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন। একজন জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে,তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র রাজ্যের উত্তরাধিকারী হবে না,বরং রাজক্ষমতা চলে যাবে ‘রা’ মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের পুত্র ডিজেদেফের হাতে। ফারাও খুফু ভাগ্যের এ-বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতে সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেই শেষ রক্ষা করতে পারেন নি।