দিন দুই হলো, উত্তুরে হাওয়া জোরদার হয়ে উঠেছে। উঠে, ওদিককার কোনো এক অজানা উৎস থেকে শত শত মাইলের বিস্তীর্ণ সমতল পেরিয়ে এদিককার মঙ্গলা নদী পার হয়, তারপর আম, নারকেল, সুপারী আর বিক্ষিপ্ত কেওড়া ওড়ার মাথা ছুঁয়ে ছুঁয়ে গায়ে শর্ষে ফুলের গন্ধ মেখে জয়মনি পার হয়ে খড়মা খালের ওপর দিয়ে ওপাড়ের সুন্দরবনে ঢুকে পড়ে।
এদিকটা গাছপালা জলাজঙ্গলায় ভর্তি, তবু নোনা জলের দেশ বলে ঠাণ্ডা পড়ে কম। কিন্তু উত্তুরে হাওয়া বইতে থাকলে অন্য কথা। রাতগুলো হয়ে উঠে অকরুণ শীতল সমস্ত জীবসত্তাকে যেন জমিয়ে দিতে চায়। চড়চড় করে করোগেটেট টিনের চালগুলো কঁকিয়ে ওঠে। দীর্ঘ শীতরাত্রির হিম লেপ-কাঁথার ভেতর দিয়ে মাংস পেরিয়ে হাড়ে ঢুকে পড়ে, নিঃশব্দে জমা শিশিরকণা গাছের পাতায় খড়ের চালে জমে, ভারী হয়ে হাওয়ায় টুপটাপ ঝরে পড়ে। একটু উষ্ণতা পাবার আশায় বাথানের গোরু মোষগুলো গা ঘেঁষে থাকে। নতুন প্রজন্মের বাছুরগুলো ঠাণ্ডায় হাঁচতে থাকে। রাত্রিচর শেয়াল ক্ষেতি কাঁকড়া ব্যাঙ ইঁদুরের খোঁজে নিষ্ফল পতরে ডেকে ওঠে।