আশ্বিনের শেষেই হিম জমতে থাকে, গাছের পাতায়, বাড়ির উঠোন ভিজে ভিজে দেখাত। কার্তিকে কোনো কোনো গাছ পাতা ঝরাতে শুরু করত। তিরতিরিয়ে শীত যত এগিয়ে আসত তত রাতে সোয়েটার থেকে পুলওভার, হাঁটু অবধি উলের মোজা, সন্ধের পরে বাইরে বের হলেই বাঁদরটুপির প্রয়োজন হত। সমস্ত চরাচর সেই ভয়ঙ্কর শীতে কুঁকড়ে থাকত কয়েক মাস।br তারপর একসময় কামড়ে কামড়ে শীতের দাঁত যখন নড়বড়ে হয়ে যেত তখন তার ধারও ভোঁতা। পাতা গজাতো ন্যাড়া গাছগুলোতে। মিষ্টি বাতাস সহ্য করতে না পেরে শীত পালাতো ভুটানে। তখনও আশিটা কমলালেবু একটাকায় পাওয়া যেত দরাদরি না করে। একটু একটু করে কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ার ফিচকেমি শুরু হয়ে যেত। সেই সাথে পলাশও। গাছে গাছে আগুন ছড়িয়ে যেত। রঙের আগুন।