আমার জীবনের যে দুঃসহ কষ্ট,যার বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিল সেই উনিশশ একাত্তর সালের তেরোই মে। সেই কষ্ট-বীজ আজ বিষাদের পাখা মেলে আকাশ ছুঁতে চাচ্ছে। আমি যেন দাঁড়িয়ে আছি নীলকণ্ঠী বিষাদময় প্রস্তরমূর্তির মতো। আমার এই জীবনযাপন,আমার এই অমানিশার কাল,আমার এই অবিমৃষ্য সম্ভাবনা-সংক্ষুব্ধ জীবনালেখ্য আজো বহমান। এই বহমান জীবনালেখ্যের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খুঁটিনাটি এই গ্রন্থের বিবর্ণ সোপান। আমার এই জীবন,যা ছিল কুসুমাস্তীর্ণ এক সম্ভাবনার অবিরল ধারা,সেই কুসুম কোমল জীবনাধারে অতর্কিতে যে কণ্টক বিষ বিঁধেছিল তা আমাকে করেছে বিবর্ণ,বিপর্যস্ত এবং বিধ্বস্ত। আমি হয়েছি পথহারা,উদ্দেশ্যহীন,বিভ্রান্ত-পথিক। তবু,এই জীবন আমি ভালোবাসি। ভালোবাসি আমি আমার বাংলা-মাকে,বাংলা ভাষাকে এবং বাংলাদেশকে। তাই বেঁচে আছি,বেঁচে থাকি,যদি একদিন এই ভালোবাসাময় বাংলাকে সত্যিকার স্বাধীনতার স্বাদ পাইয়ে দিতে পারি এই আশায়….