জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ১৯৯৮ সালে এই অভিসন্দর্ভটি জমা দিই বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়ের (বনফুল) জন্মশতবার্ষিকীকে সামনে রেখে। তারপর সময় গড়িয়ে গেছে অনেক- সেদিনের অনুসন্ধিৎসু সেই শিক্ষার্থী আজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। স্বভাবতই গবেষণাকর্মটি নাড়াচাড়া করতে গিয়ে বহু উজ্জ্বল-বর্ণিল স্মৃতিরা এসে ভিড় জমাল। বনফুলের সাহিত্যসৃষ্টির পরিমাণ বিপুল। ছোটোগল্প, কবিতা, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধের এক বিশাল সম্ভার রয়েছে তাঁর। তাঁর অনুজ বন্ধুপ্রতিম সতীনাথ ভাদুড়ীর ভাষ্যমতে, ‘মানুষ যেমনভাবে নিঃশ্বাস নেয়, বনফুল তেমনিভাবে লেখেন। তার লেখা বইগুলোকে একজন লোক বোধহয় সারা জীবনে শুধু নকল করে উঠতে পারবে না।’
এই বিপুল সাহিত্য-সম্ভারের কয়েকটি মাত্র সমালোচনামূলক গ্রন্থ রচিত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে। বনফুলের মৃত্যুর অব্যবহিত পরই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. সুকুমার সেনের স্মৃতিচারণমূলক ভাষণের সংকলন বনফুলের সাহিত্য-সৃষ্টির পরিচয়বহ মূল্যবান গ্রন্থ বনফুলের ফুলবন প্রকাশিত হয়েছিল। বাংলা ১৩৮৯ সনে প্রকাশিত ধীমান দাশগুপ্ত সম্পাদিত বনফুলের কথাসাহিত্য নামের গ্রন্থটি বিভিন্ন সমালোচকের প্রবন্ধসংকলন। এটি আজ পর্যন্ত বনফুলের সাহিত্য-সমালোচনার সর্বোৎকৃষ্ট মননঋদ্ধ গ্রন্থ। এ ছাড়া নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, শিশিরকুমার দাশ, ভূদেব চৌধুরী, সরোজমোহন মিত্র, রথীন্দ্রনাথ রায়, বীরেন্দ্র দত্ত প্রমুখের ছোটোগল্পবিষয়ক ইতিহাসগ্রন্থে সংক্ষিপ্ত আলোচনা রয়েছে।
বাংলাদেশে বনফুলের ছোটোগল্প গুটিকয়েক সাহিত্যমোদী মানুষের পরিচিত। তাঁর বৈচিত্র্যময় সাহিত্য-সম্ভার অধিকাংশ পাঠকেরই অগোচরে রয়ে গেছে বলে ধারণা করা যায়।