মানুষের মন একটি বিমূর্ত বৈচিত্র্যের আধার। বস্তুত মানুষের মনের চেয়ে অধিক বৈচিত্র্যময় কিছু বুঝি এ বিশ্বলয়ে দ্বিতীয়টি নেই। একজন মানুষের মনে একই সময়ে, একইসাথে লক্ষ-কোটি দ্বন্দ্ব-সংঘাত ক্রিয়া করে। এ মানসিক দ্বন্দ্বের ওপর ব্যক্তির আসলে তেমন কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির শ্রেণিগত ও পেশাগত ভিন্নতার কারণে ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে এ দ্বন্দ্বসমূহের আচরণগত বৈশিষ্ট্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়।
জনাব মো. আবদুল মতিন পেশায় ছিলেন একজন ব্যাংকার। কর্মজীবনে পেশাগত কারণেই প্রতিদিন তাঁকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মিশতে হতো। এরই সুবাদে তিনি তাদের মনের দ্বন্দ্ব-সংঘাতের প্রকৃতি বোঝার চেষ্টা করতেন। তারই লব্ধজ্ঞানে মানুষের মনের কথাগুলো তিনি কবিতার মাধ্যমে প্রকাশ করে থাকেন, প্রকাশ করে থাকেন সমাজের স্তরে স্তরে বিদ্যমান নানান অসংগতিসমূহ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বর্ণনায়, কখনো-বা প্রতিবাদী ভাষায়। তাছাড়াও সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে একজন মানুষের করণীয়, মানুষের সাথে মানুষের আচরণ, মানবিক মূল্যবোধ ইত্যাদি কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়গুলিও উঠে আসে তার কবিতায়। উঠে আসে প্রকৃতি, বাদ পড়ে না সাম্প্রতিক বিষয়াদিও।