অস্তিত্ব এক প্রহেলিকা: ধরা-ছোঁয়া-উপলব্ধির মধ্যে যতটুকু তার আকার, তা এক সামান্য পাওয়া, যদিও অন্তিমে তাও নিরর্থক। বিশ্ববিধান অত্যন্ত নিষ্ঠুর কঠিন প্রকাণ্ড গণিতের মতো; কিন্তু এই দৃঢ় বন্ধনের মধ্যেও আছে মুক্তি, সেজন্যই আমরা হাসি গান গাই। সংগ্রামশীলতা এই মুক্তিরই দিক। তা অতীতকে বিদীর্ণ করে, অস্তিত্বকে করে অর্থময়। লাখো বছরের যে সময় অনন্তের এক পলকের সমান তার মধ্যে মানব অস্থিপ্রবাহের কি দাম থাকত যদি না সে গড়ে তুলত জীবনের নানা স্তম্ভ?
অস্তিত্বের মধ্যে যেমন ধ্বংস লুকিয়ে, তেমনি আছে সৃষ্টির বীজ, যে ঝরনাধারায় অবগাহন করে প্রতি মুহূর্তে বেঁচে উঠে আমরা হই মৃত্যুঞ্জয়। বিকেল থেকে লিখছিলাম একটি রেডিওনাট্য, ঘরে ফেরার সময়। এগারোটার দিকে বিছানায় শুয়ে শুয়েও ভিতরে চলছিল তারই প্রক্রিয়া। আমাদের মাথার উপরে ঝুলছে এক অশুভ শক্তির খড়া কৃপাণ, একে পরাস্ত করবার একমাত্র উপায় সর্বাত্মক জাগরণ, সারা জনতার গ্র্যানাইট দৃঢ় ঐক্য।