গালিভারের ভ্রমণ কাহিনী হিসাবে অতুলনীয়; শৈশবসূলভ কল্পনার স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিণত বুদ্ধির এমন অপুর্ব সমাবেশ কম দেখা যায়। ভাষার দিক থেকেও এই রচনার উৎকর্ষ অবিসংবাদিত। এমন প্রাঞ্জল ও সাবলীল গদ্য গল্পের রস জমাবার পক্ষে অদ্বিতীয়। এ ভাষা এলিজাবেথীয় যুগের বিলাসিতার বাড়াবাড়ি কাটিয়ে উঠেছে, অথচ জনসনীয় যুগের পন্ডিতন্মন্যতার বেড়াজালে জড়ায়নি। এমন কাহিনীর পক্ষে এর চেয়ে যােগ্যতার ভাষা ভাবা যায় না। পর্বত পুরুষ অথবা গ্যালিভারের ভ্রমণকাহিনীর অর্ধেক মাধুর্যই হল তার কপট গম্ভীর প্রকাশ ভঙ্গীতে এবং অভাবনীয় পরিস্থিতিতে বাস্তবধর্মী নায়কের প্রতিক্রিয়ায়। অভূতপুর্ব ঘটনাগুলিকে তাদের ছােট ছােট খুঁটিনাটি সহ এমন নিরাসক্তভাবে সংযত ও স্পষ্ট ভাষায় বিবৃত করা হয়েছে যে বিস্ময়ে অভিভূত পাঠক গালিভারের লােমহর্ষক অভিজ্ঞতার সঙ্গের সাথী হয়ে ওঠেন। মনে হয় গল্পের চারটি খন্ডের মধ্যে লিলিপুট কাহিনী সবচেয়ে কাব্যময় এবং ব্ৰবডিংনাগের ব্যাপারে সবচেয়ে উদ্ভট। লাপুটার বিবরণী তেমন ভালাে উৎরােয় নি, কিন্তু তার মধ্যেকার ভবিষ্যদ্বানীয় ইঙ্গিত পাঠককে বিস্মিত না করে ছাড়ে না। হুইমদের দেশের কাহিনীতে যে রকম উগ্র ও তিক্ত শ্লেষ পাওয়া যায়, তার জুড়ি মেলা ভার।