শুনতে বেশ ভালো' কথাটির অন্তত দুটি অর্থ আছে। প্রথমত এবং প্রধানত যে অর্থের কথা আমরা ভাবি, সেটা যে, যা বলা হয়েছে, অর্থাৎ বলার বিষয়টা শ্রোতার ইচ্ছা বা মনোভাবের অনুকূল, এই বক্তব্য শ্রোতা শুনতেও চেয়েছে এবং শুনে তার পছন্দ হয়েছে। দ্বিতীয় অর্থ হল, কথাগুলির 'ধ্বনিগত' রূপ কানের অনুকূল, অর্থাৎ সেগুলি শ্রবণেন্দ্রিয়ে এক ধরনের স্বচ্ছন্দ রণন তৈরি করে। এই দ্বিতীয় অর্থের মধ্যে বলার বিষয়টা সম্বন্ধে কোনো ইঙ্গিত নেই; বলার কথাটা বা বিষয়টা যাই হোক না কেন, কথাগুলির শ্রুতিগত রূপ বেশ আকর্ষক, শুদ্ধ সেইটুকুই বোঝানো হচ্ছে। তৃতীয় আর একটি অর্থও নিশ্চয়ই বার করা যায়। কথাটা 'যেভাবে বলা হচ্ছে তা বেশ পছন্দসই'।
এই 'যেভাবে' কথাটা তখন ব্যাখ্যা করতে হবে। 'যেভাবে' মানে কী? যেভাবে সাজানো হয়েছে শব্দগুলি? বক্তার কণ্ঠস্বরে বিনয় বা নম্রতা বা মাধুর্য ছিল? বক্তা শ্রোতার পিঠে হাত বোলাতে বোলাতে কানের কাছে গুনগুন করে কথাগুলি বলেছে? Sweet nothings যে ভাবে বলা হয়? বা হাতে হাত রেখে বলেছে? সে সব অনুমানের মধ্যে যাব না আমরা এখন-তৃতীয় অর্থের বহুপ্রকোষ্ঠযুক্ত ফাঁদে ধরা দিয়েও এখন আমাদের দরকার নেই। আমাদের লক্ষ্য হল দ্বিতীয় অর্থ, যে অর্থ হল কথাটা 'কানে' শুনতে বেশ ভালো।' অর্থাৎ কথাটার ধ্বনিপরম্পরা কানের পর্দায় এবং বলা বাহুল্য, মস্তিষ্কের নির্দিষ্ট কোষগুলিতে, একটা রম্য শ্রুতিবেদন তৈরি করে। এই অর্থ থেকেই ধ্বনি-নির্ভর সৌন্দর্য-তত্ত্বের কিছুটা আভাস আমাদের তৈরি করতে হবে। এই সৌন্দর্যতত্তের একটা আদিম ধারণা পাচীন যুগ থেকেই আছে।