'ঘরে-বাইরে-এর (১৯১৬) আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে দুইটি স্তর আছে- প্রথমটি রাজনৈতিক ও দ্বিতীয়টি সমাজনীতিমূলক। স্বদেশি আন্দোলনের প্রথম যুগে উচ্ছ্বসিত দেশপ্রীতির জোয়ারের তলে যে আত্মপ্রচার ও নীতিজ্ঞানবর্জিত সাফল্য-লোলুপতার একটা পঙ্কিল স্তর ছিল, লেখক সন্দীপের চরিত্রে তাহাই একেবারে অনাবৃতভাবে উদঘাটিত করিয়াছেন। অবশ্য সন্দীপ যে এই আন্দোলনের খাঁটি প্রতীক, ইহা বলিলে আন্দোলনের প্রতি অবিচার করা হইবে।
সমাজে এমন দুই একজন লোক আছে, যাহারা মূলত anarchic, যাহাদের প্রচণ্ড ব্যক্তিত্ব নীতিজ্ঞানের মর্যাদা লঙ্ঘন করিতে অণুমাত্র দ্বিধাবোধ করে না, যাহাদের নিঃসংকোচ বস্তুতন্ত্রতা আদর্শবাদের ক্ষীণ প্রলেপেরও অপেক্ষা রাখে না। ভোগসুখ ও তাহার চরিতার্থতার মাঝে যে একটা অস্থিমজ্জাগত নৈতিক সংস্কার দুর্লঙ্ঘ্য বাধার ন্যায় মাথা তুলিয়া দাঁড়াইয়াছে তাহাকে তাহারা কাপুরুষোচিত দুর্বলতা বলিয়া উপহাস করে।
দস্যুবৃত্তিই ইহাদের সমাজনীতি, দিগবিজয়ী রাজারাই ইহাদের আদর্শ পুরুষ। সমাজের স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থায় ইহারা চতুষ্পার্শ্বের পেষণে সংকুচিত থাকিতে বাধ্য হয়, ইহাদের বিরাট আত্মম্ভরিতা পূর্ণ প্রসারণের অবসর পায় না।