সেই শৈশব-কৈশোরকাল থেকে আমি ছিলাম প্রচণ্ড ডানপিটে। শুধু ডানপিটে বললে কম বলা হবে। বলা যেতে পারে দুরন্ত ডানপিটে। শিশুরা যখন একটু একটু বেড়ে উঠে, তখন তাদের মধ্যে একটু-আধটু দুরন্তপনা না থাকলে কৈশোর বা তারুণ্য বোঝা যায় না। মাতৃকোল থেকে যখন হামাগুড়ি দিতে শেখে তখনই শিশুদের দুরন্তপনা বেড়ে যায়। তাই এটাকে অতিরিক্ত বলা সঙ্গত নয়। তবে মা মাঝে মাঝে বলতো, বৃষ্টি নামলে নাকি আমার দুরন্তপনা বলেন আর দস্যিপনা বলেন তা বেড়ে যেতো। আর সে কারণেই আমার পায়ে রশি দিয়ে দরজার খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হতো, যাতে বাইরে যেতে না পারি। এতে নাকি দাদা প্রচণ্ড রাগ করতেন, বকাঝকা করতেন দাদিকে, মা'কে। ১৯৬৮ সালে আমার দাদা আলহাজ্জ আবদুল মজিদ ইন্তেকাল করেন। দাদা ছিলেন স্বভাব-কবি। তিনি কথায় কথায় ছড়া কাটতেন। দাদার ছড়াকাটার স্বভাবটি আমাকেও অনুপ্রাণিত করে দারুণভাবে। কক্সবাজারের লোকসাহিত্য নিয়ে গবেষণা করার উপলক্ষটি আমার দাদার সুবাদেই পাওয়া বলা চলে। একইসাথে আমার পারিপার্শ্বিক অবস্থাও আমাকে লোকসাহিত্যের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।