বাঁশবন ও কোপাই নদীর হাঁসুলীর মতো বাঁক এদের ভদ্রলোকদের গ্রাম ও ধাবমান আধুনিকতা থেকে আড়াল করে রাখছে। ওরা কাজেকর্মে সেখানে খুবই যায়, কিন্তু গাছের পাতায় জলবিন্দুর মতো বাইরের যা কিছু ঝরিয়ে দিয়ে আসে। কাহারদের মনে মসৃণ বৃক্ষপত্র হতে পারে কিন্তু বাস্তবতা-ইতিহাসের অমোঘ রথচক্র তো জলবিন্দু নয়, যে ঝরিয়ে দিলেই ঝরবে, সুচাঁদ বুড়ির আদ্যিকালের গল্পের কি এতটা জোর হবে?
সুচাঁদ চরিত্রটি পারিবারিক সম্পর্ক ঠিকই আছে। সে বনওয়ারি মোড়লের সম্পর্কে পিসি, অন্যতম মূল চরিত্র করালীর দিদিশাশুড়ি, তার মেয়ে বসন, দৌহিত্রী পাখি। সেই সব বিচিত্র বন্ধনে সে পুরো জীবন্ত একটি অস্তিত্ব। সেই রূপটি মেয়ে বসন, বজায় রেখে লেখক তাকে গোটা সমাজের বিবেক ও নিয়মিত এবং অরও বেশি কিছু, যেন বিদেশি ত্রাবেদুরের বৈশিষ্ট্য দিয়েছেন। সুচাঁদ কিন্তু তার স্বাভাবিক মানবিক ভূমিকায় কোথাও বাস্তবতার একটু বাইরে নয়। পার্বণের দিনে তার নেশা করে হুল্লোরবাজি, বা বনওয়ারির জমিতে দিনমজুরিতে খাটা, কাজে ফাঁকির জন্য ধমক খাওয়া ও বৃত্তি খোয়ান না,