কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর বড় অকালে আমাদের ছেড়ে গেলেন। আমি দূরে থাকি বলে এই মৃত্যুসংবাদও পেলাম অকস্মাৎ। তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকাতে এসেও আমাকে টেলিফোন করেছিলেন। তারপর ট্রেনে ফেরবার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং আমি ঠিক জানি না তাঁর মৃত্যুটা ট্রেনেই ঘটেছিল, নাকি হাসপাতাল পর্যন্ত তাঁকে আনার সুযোগ মিলেছিল। বিনা মেঘে বাজ পড়ার কথা শোনা যায়। জাহাঙ্গীরের মৃত্যু অন্তত আমার কাছে এই রকমই।
তাঁকে তো চিনি অনেক কাল থেকে। চট্টগ্রামে আলাপ হয়েছিল। রেলওয়ে হসপিটালের ডাক্তার ছিলেন। আলাপের সঙ্গে সঙ্গে আমার খুব অন্তরঙ্গ মানুষ হয়ে গেলেন তিনি। চট্টগ্রামে যখনই গেছি তাঁর সঙ্গে দেখা হয়েছে এবং দু'একবার তাঁর বাসাতেও গিয়েছিলাম। এই রকম সাহিত্য ও ও শিল্পপ্রাণ মানুষ আমি কমই দেখেছি। বুকে আগুন বয়ে নিয়ে যাবার মতো তিনি শিল্প, সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা বয়ে বেড়াতেন।
পড়াশোনা করেছিলেন অনেক। বিশেষ করে বাংলা কথাসাহিত্য। বলব গোটা বাংলাসাহিত্যই। সাহিত্য নিয়ে কথা বলা ছাড়া তাঁর অন্য কোনো কিছুতে আগ্রহ ছিল বলে মনে হতো না।