মৌলবীসাব খুব সুর করে কীসব গপ্পো পাড়েন 'ত্বরা জ্বীন দেখচোস? আল্লাতালা মানুষ আর জ্বীনের সম্মান দেছেন, তার বিচার হইবো, কাল কেয়ামতের ময়দানে।' কপাল ভেতোরে ভেতোরে জপ করে 'কাল কেয়ামতের ময়দানে'-মানে কী? গা শিউরে ওঠে, কয় কী হুজুর! কাল কেয়ামত পুন্নি, মানে তো সব শ্যাষ। হুজুর কঠোর চাবালিতে কন, 'মানুষ তোমার হুঁস হয় না?' কাল আর বেশি দূরে নাই। এই পুলসেরাত, গরম পানি, দেড়হাত মাতার ওপর সূর্য, হু হু করে কান্দি বেড়ানো মানুষের প্রলাপ, এ ওর দ্বারে, সে আরেকজনের দ্বারে ঘুরছে তো ঘুরছে, কোনো ফায়দা পাচ্ছে না।
হে মানুষ দুনিয়ায় যদি ঠিকঠাক চলতিস তবে কি আজ এই দশা হয়। কিন্তু সবই কি কালকের ব্যাপার! হিসাব মেলে না কপালের। তার কানে বার বার ফুইটে ওঠে 'কাল কেয়ামতের ময়দানে...' 'কাল কেয়ামতের ময়দানে...' মারাত্মক ধ্বনি। কী ভয়ঙ্কর কথা! এর মধ্যেই বুঝি পুন্নির পুনর্জন্ম হইছে।
ভাবতে ভাবতে কুঁকড়ে যায়। ক্লান্তি কামড়ায়। কী এক কুৎসিত ক্রোধ তাকে চেপে ধরে। স্বস্তি দেয় না। খড়ের মাঠে দাবড়ায়। আর চিক্কন হিহি আওয়াজে তাড়া করে। পুন্নি পুন্নি... ছাইড়ে দেয়, আর ভাল্লাগে না।