বিশ্বনবী' লিখিবার ২২ বৎসর পর হযরত আবুবকরের জীবনী লিখিবার সৌভাগ্য আমার হইল। 'বিশ্বনবী' লিখিবার কালে যে অদৃশ্য শক্তির ইঙ্গিত ও প্রেরণা অনুভব করিয়াছিলাম, এবারেও সেই প্রেরণা ও ইঙ্গিত আমাকে এই পথে চালিত করিয়াছে। দুই বৎসর পূর্বে আমি যখন কেন্দ্রীয় বাংলা-উন্নয়ন-বোর্ডের গভর্নিং বডির মেম্বার মনোনীত হই তখনও বুঝি নাই যে, এই মহাপুরুষের জীবনী আমাকে লিখিতে হইবে। কিন্তু ধীরে ধীরে এমন অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি হইল যে, তখন পরিষ্কার বুঝা গেল, এই মহান কর্তব্য আমার জন্যেই সঞ্চিত হইয়া আছে। বোর্ড হইতে যখন নানা পরিকল্পনা গৃহীত হইল, তখন আমাকে দেওয়া হইয়াছিল কবি-সাহিত্যিকদের জীবনী লিখিবার ভার। কিন্তু পরবর্তী চিন্তার ফলে বোর্ডের ডিরেক্টর বন্ধুবর ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক আমাকে 'খোলাফায়ে রাশেদীনে'র জীবনী লিখিবার জন্য অনুরোধ জানান। এই প্রস্তাব আমি আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করি। আজ গ্রন্থ রচনার শেষে বুঝিতে পারিতেছি, অনেক পূর্বেই এই শুভ কার্য সম্পন্ন করা আমার উচিত ছিল। জীবনের অপরাহ্ণে-বেলায় অদৃশ্যলোক হইতে কোনো সতর্ক অভিভাবক আমার গাফ্ফাতির কথা যেন স্মরণ করাইয়া দিলেন। আমার অবহেলার জন্য আমি আজ সত্যই অনুতপ্ত। ভগ্ন স্বাস্থ্য ও ক্ষীণ দৃষ্টি লইয়া আজ আমাকে এই গ্রন্থ লিখিতে হইল। সুস্থ মন ও স্বাভাবিক