দ্য ওয়ার অন দি উইঘুরস
পূর্ব-তুর্কিস্তানের ওপর সাম্রাজ্যবাদী চীনের ঔপনিবেশিক আগ্রাসনের সূচনা অষ্টাদশ শতক থেকেই। কিন্তু এই ভূমির অধিবাসী উইঘুর ও অন্যান্য মধ্য-এশীয় জাতিগোষ্ঠীকে দমনের ক্ষেত্রে চীন যেন ঠিক কায়দা করে উঠতে পারছিল না। আর কাকতালীয়ভাবে চীনকে এই সুযোগটি এনে দেয় আমেরিকা। ৯/১১-পরবর্তী আমেরিকা প্রণীত ওয়ার অন টেরর মডেল লুফে নেয় চীন এবং একটা গোটা জাতিসত্তাকে তথাকথিত সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে চীনের রাষ্ট্রযন্ত্র।
ইয়েমেন ক্রাইসিস
২০১১ সাল। সুদূর উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় জ্বলে ওঠা আরব বসন্তের ছোঁয়া এসে লাগে মধ্যপ্রাচ্যের সর্বদক্ষিণের দরিদ্র দেশ ইয়েমেনে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আলি আবদুল্লাহ সালেহের পদত্যাগের পর উত্থান ঘটে হুথি বিদ্রোহীদের, শুরু হয় এক রাজনৈতিক অস্থিরতা। শিয়া সম্প্রদায়ের একটি অংশ হিসাবে হুথিদের উত্থান সউদি আরবের জন্য হয়ে ওঠে অস্বস্তি ও ভয়ের কারণ। ফলে দ্রুতই ইয়েমেন পরিণত হয় সউদি-ইরান প্রক্সি যুদ্ধের কুরুক্ষেত্রে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কৌশলগত রুট হিসাবে এই যুদ্ধ কেবল সউদি-ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। নাটকীয়ভাবে একেক করে এসে যুক্ত হয় জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, লোহিত সাগর তীরবর্তী আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলো এবং হর্ন অব আফ্রিকার দেশসমূহ।
কুর্দি ও কুর্দিস্তান
মনে আছে আয়লান কুর্দির কথা? ভূমধ্যসাগরের উপকূলে পড়ে থাকা লাল জামা পরা ছোট্ট শিশুটির নিথর মৃতদেহ গোটা বিশ্ববিবেককে তুমুলভাবে নাড়িয়ে তুলেছিল! সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি আরব বসন্তে অস্থিতিশীল সিরিয়ার যুদ্ধ-বাস্তবতা ও মানবিক সংকটকে তুলে ধরার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী জাতিগোষ্ঠী কুর্দিদের ভাগ্যবিড়ম্বনার দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠেছিল।