জাগরী উপন্যাসটি ভারতীয় সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠকর্ম হিসেবে বিবেচিত। ১৯৪৫ সালে উপন্যাসটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়। এটি অর্ধ-আত্মত্মজীবনীমূলক উপন্যাস। এর কাহিনিপট ১৯৪০-এর দশকের 'ভারত ছাড়' আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নির্মিত। উপন্যাসটি চারজন ভিন্ন ব্যক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে, উত্তমপুরুষে লিখিত। রাজনীতির আবর্তে চক্রায়িত এক পরিবার-মাতা, পিতা এবং দুই পুত্র। এক পুত্রের সাক্ষ্যের পরিপেক্ষিতে আর এক পুত্র বিপ্লবী বিলুর মৃত্যুদণ্ড হয় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়। উপন্যাসটি শুরু হয়, বিলুর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার আগে জেল হেফাজতে তার শেষ রাত থেকে। প্রথম অধ্যায়টি বিলুর দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে, যেখানে সে নিজের জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে। তার সাথে সংঘটিত অমানবিক নির্যাতনের কথাও এখানে বর্ণিত হয়েছে। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ অধ্যায়ে তার বাবা, মা এবং ভাইয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে একই গল্প বর্ণনা করা হয়েছে। তারা সকলেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় তাদের নিজস্ব চিন্তা, উদ্বেগ এবং অভিজ্ঞতা ব্যাখ্যা করে। ১৯৫০ সালে এই উপন্যাসটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত প্রথম রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হয়।