আজ বৃহস্পতিবার। ফরাস মিয়ার স্ত্রীর মৃত্যুবার্ষিকী। তার বাগান বাড়িতে চল্লিশ-পঞ্চাশজন গরিব ভিক্ষুকদের খাওয়ানোর আয়োজন চলছে। বাবুর্চি শিবলুস্বাদ ঝাঁ ঝাঁ রৌদ্রে দাঁড়িয়ে রান্না করায় ব্যস্ত। তার রান্নার হাত যশ অসম্ভব ভালো। রাধকের ডাক নাম শিবলু। রান্নার সুখ্যাতির জন্যে নামের শেষে টাইটেল হিসেবে স্বাদ যোগ হয়েছে। এখন সে শিবলু স্বাদ।
খুব হাসিখুশি টাইপ লোক। প্রচণ্ড রোদে আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে রান্না করে যাচ্ছে, তবুও মুখের হাসি কমছে না। গাল ভরে হাসি দিয়ে বলছে গোশতটা স্বাদ হইছে। সাদা ভাত, গরুর গোশত আর ডাল রান্না করা হচ্ছে। সাথে থাকছে বড় বড় চাক করে ইলিশ ভাজা। সাগরের ইলিশ না পদ্মার ইলিশ। ঘ্রাণে ও স্বাদে চমৎকার। ফরাস মিয়া কামরাঙা গাছের ছায়ায় চেয়ারে বসে আছেন। তিনি বারবার শিবলুর দিকে তাকাচ্ছেন। শিবলুর বাবা সপরিবারে প্রথম যখন এই গ্রামে এসেছিল তখন তারা ছিল হিন্দু পরিবার।