কাহ্হার মাঝি গিয়েছিল ফকিরের ডেরায়। চোখ তুলে রাইসা বিবিকেই সে নিরিখ করছিল। গাঁজার আকর্ষণেই তার এদিকটায় ছুটে আসা। পরে জড়িয়ে যায় নারী ঘটিত কেলেঙ্কারীতেও। সবাই জানে সে ইনু খন্দকারের এক নম্বরের চামচা। মেয়েরা পুরুষের চাহনি নিমিষেই বুঝতে পারে তা আর নতুন কী কথা! তেমন বিচারে মাঝিকে জানতেও বাকি থাকে না ওর। তবে সবটুকু যে কামনামদির বিষয় তাও নয়। প্রকৃতপক্ষে রাইসা বিবির সাথে গোপন খবর আদান-প্রদানের জন্যেই তার এই অপেক্ষা। চৌকিতে বসে গাঁজা বেচার পয়সা গুনতে গুনতে কতরকম দৃশ্য যে চোখের সামনা দিয়ে পাড় হয়ে যায়! মোছে বেশিরভাগটুকু, দু-একটি কাটাকুটি ভেতরে ভেতরে চলে তাও। যেমন ধরা যাক হাবিলের নাম। সে ফকিরের আদি খরিদ্দার। ষ্টেশনের পাশটায় কচুরী-পানা ঠাসা সরকারী জলা। কিনার ঘেঁষে চালা উঠিয়ে দশটা গাই-গরু পুষে হাবিল ভালই কামায়। সন্ধ্যার পর তার নিয়মিত আসরে আসা চাই। শুধু গাঁজার জন্যে নয়, লোভ তার পাশে পাশে রয়ে যায় রাইসা বিবির জন্যেও। গাঁজার পুটলি নিয়ে দাম দেবার সময়ে সে সাধারণত মেয়েমানুষটার হাত কাঁপা কাঁপা তালে একটু নরম ধারায় ছুঁয়ে দিতে যায়। অবশ্য মুখ ফুটে ভেতরের তৃষ্ণাটুকু জানাবার সাহস তার কোনদিন হয়নি।