'রৌদ্র হাঁটা থামিয়ে হঠাৎ করেই অনুভূতিকে আড়কোলা করে দুহাতের ওপর তুলে ধরলো। রৌদ্রের মনে হলো একটা হলুদ পাখি তার হাতের ওপর। গায়ে তার সরষে ফুলের ঘ্রাণ। কচুরিপানার মতন নরম তার শরীর। শিকারির হাতে আচমকা আটকে পড়া ঘুঘুর মতন কাঁপছে তার ঠোঁট। খুচরো চুলে ঢেকে ছিল অনুভূতির মুখ। চোখ দুটি বন্ধ। রৌদ্র ফু দিয়ে অনুভূতির মুখের ওপর ছড়ানো চুলগুলো সরিয়ে দিয়ে বললো, তুমি অনুপমা।' অনুভূতিকে ঘিরে রৌদ্রের যে মুগ্ধতা তা উপন্যাসের অন্যান্য নর-নারীর মধ্যে চম্বুকের মতন ক্রিয়াশীল থেকেছে; তবে তা সব সময় যে নিরবিচ্ছিন্নভাবে থেকেছে এমনটিও নয়। তাই 'জল রঙের জীবন' উপন্যাস হয়ে উঠেছে রৌদ্র-অনুভূতি, সমুদ্র-বেলাভূমি, উৎসব-রঙছুট, প্রয়াস-আবৃত্তি, শ্রাবণ-নিরুপমা, বর্ণিল-নীলু, নামক আধুনিক কিছু মানব-মানবীর সমকালীন দ্বান্দ্বিক জীবনবেদের প্রতিভূ।