বিগত দেড়শো বছরের বাংলা নাট্যসাহিত্য ও রঙ্গমঞ্চের ইতিহাসে যে ব্যক্তিকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও অনুসন্ধান হয়েছে তিনি মহাকবি গিরিশচন্দ্র ঘোষ। এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নাট্যকার শেক্সপিয়রকেও মহাকবির মর্যাদা দেওয়া হয়, কেননা কালজয়ী ট্রাজেডি ও কমেডির সৃষ্টিসম্ভার ছাড়াও অসাধারণ শতাধিক সনেট তাঁর আছে। সেই অর্থে গিরিশচন্দ্র 'মহাকবি' কেন 'কবি'ও নন। কিন্তু তাঁর নাটকের পদ্য-সংলাপ যোজনার সময় তিনি 'গৈরিশ ছন্দ' নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি ছন্দরীতির জন্ম দেন। সঙ্গে সঙ্গে সিরাজদৌল্লা, মীরকাসিম বিল্বমঙ্গল প্রভৃতি নাটকের গদ্য-সংলাপ অংশেও তিনি কবিতার লাবণ্য, মাধুর্য সঞ্চারিত করেন। তাঁর লেখা বাংলা সাহিত্যের এতাবৎ শ্রেষ্ঠ নাটক জনা-র মধ্যে ভাষা ও ছন্দ প্রয়োগে তিনি উনিশ শতকের প্রতিষ্ঠিত কবিদের সমকক্ষ। তাই তিনি মহাকবি। তাঁর কথা থেকে জানা যায়, পিতা নীলকমল ঘোষের কাছ থেকে তিনি সাংসারিক বিষয়বুদ্ধি পেয়েছিলেন আর জননী রাইমণির কাছ থেকে কাব্যের প্রতি