বৈশাখের আধাআধি। প্রচণ্ড গরম। অনেক দিন বৃষ্টি হয়নি। মাঠ ঘাট ফেটে চৌচির। দুপুরের পর থেকে লু-র মতো বাতাস বইতে থাকে। আজ বিকেল থেকে ঈশান কোণে একটা কালো মেঘ দেখা দিয়েছে। মেঘটা খুব ধীরে ধীরে সমস্ত আকাশ ঘিরে ফেলার জন্য যেন হামাগুড়ি দিয়ে এগোচ্ছে। রাখাল বালকেরা গরু বকরি তাড়াতে তাড়াতে ঘরে ফেরায় ব্যস্ত। গৃহবধূরা হাঁস-মুরগি খোঁয়াড়ে তুলছে। রাস্তার লোকজন ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে যে যার ঘরের দিকে ছুটছে। বনের পশু পাখিরাও বিপদ সঙ্কেত বুঝতে পেরে নিজেদের আশ্রয় স্থলে ঢুকে পড়ছে।
ঠিক মাগরিবের নামাযের পরপর কাল বৈশাখীর ঝড়-বৃষ্টি শুরু হল। সে কী ভীষণ ঝড়ের দাপট। সেদিন কেউ এশার আজান দিতে বা নামায পড়তে মসজিদে যেতে পারল না। বহু বেড়ার ও টিনের বাড়িঘর ভূমিষ্যাৎ হল। ছোট বড় অনেক গাছপালাও উপড়ে গেল। লোকজন একটু আশ্রয়ের জন্য ছুটাছুটি করতে লাগল। মুরুব্বিদের ধারণা আজান দিলে ঝড়-বৃষ্টি থেমে যায়। তাই তাদের অনেকে যে যার ঘরের দরজার কাছে দাঁড়িয়ে আজান দিল।