ভাওয়াইয়া সংগীতের ইতিহাসে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পী কছিম উদ্দীন এক অনন্য, দীপ্তিমান ও বহুমাত্রিক প্রতিভার নাম। অনুপম সৌন্দর্যবোধ, তীক্ষ্ণ মননশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঋদ্ধ এই ক্ষণজন্মা শিল্পী উত্তরবঙ্গের লোকসংস্কৃতিকে দিয়েছেন নতুন ভাষা, নতুন দিগন্ত। ভাওয়াইয়া সম্রাট আব্বাস উদ্দীনের পর যার নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হয়, তিনি নিঃসন্দেহে ভাওয়াইয়া যুবরাজ কছিম উদ্দীন।
কন্ঠশিল্পী, গীতিকার, সুরকার, দোহার ও অভিনেতা-প্রতিটি পরিচয়েই তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র ও শক্তিমান। তার সংগীতে গ্রামবাংলার নর-নারীর প্রাত্যহিক জীবনসংগ্রাম, শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের তীব্র ভাষা এবং মানবিক সৌন্দর্যের দীপ্ত প্রকাশ সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
এই গ্রন্থটি কেবল একজন শিল্পীর জীবনকথা নয়; বরং এটি ভাওয়াইয়া সংগীতের ইতিহাস, নান্দনিক বিকাশ ও সামাজিক ভূমিকার এক মূল্যবান দলিল। এখানে কছিম উদ্দীনের জীবনসংগ্রাম, সংগীতসাধনা, মুক্তিযুদ্ধে তার সক্রিয় ভূমিকা এবং ভাওয়াইয়া ধারায় তার অনন্য অবদান তথ্যনিষ্ঠ ও বিশ্লেষণধর্মী দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপিত হয়েছে। ভাওয়াইয়া সংগীতশিল্পী, অনুরাগী ও গবেষকদের জন্য গ্রন্থটি যেমন প্রামাণ্য সহায়ক, তেমনি লোকসংস্কৃতি অনুসন্ধিৎসু পাঠকের কাছেও সুখপাঠ্য গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে।