ডাক্তার মামা টর্চের আলোয় পথ দেখে দেখে হাঁটছেন। সেই দাদুর মতো মামার হাতেও লম্বা একটা তলোয়ার। মামার হাত ধরে হাঁটতে অনু। তবু পা দুটো কিছুতেই নড়তে চাইছে না ভয়ে। হাঁটতে হাঁটতে মামা চলে গেলেন সেই স্কুলের মাঠে।
একেবারে সেই খেজুর গাছ দুটোর কাছাকাছি। সামনে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মামা হঠাৎ করে টর্চ জ্বালালেন। আর অমনি অবাক করা দৃশ্য ভেসে ওঠে চোখের সামনে। দুই গাছের ওপর দুটি পা রেখে দাঁড়িয়ে আছে লম্বাএক মানুষ। গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। মুখটা কালো। লম্বা দুটো হাত সামনের দিকে বাড়ানো। অনু দেখেই বলল, ‘ওই তো সেই ভূত! আমি বলেছিলাম না- ভূত কখনো ভুল করে না আসতে?’ ডাক্তার মামা বলেন, ‘ঠিক বলছিস? এই ভূতটাকেই তো দেখেছিলি? সত্যি করে বল।’
অনু এবার জোর দিয়ে বলে, ‘হ্যাঁ মামা, সত্যিই বলছি, এই ভ‚তটাই সেদিন লম্বা হাত দিয়ে আমকে ধরতে চেয়েছিল।’ মামা এবার স্কুলের মধ্য বয়সি পিয়ন নির্মলকে ডাক দিলেন, ‘এই নির্মল, এদিকে এসো তো।’ নির্মল ছুটে কাছে এলে মামা তাকে বললেন, ‘এই অসভ্য ভূতটাকে এখনই টেনে-হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনো। ওকে আমি এমন শিক্ষা দেবো যে আমার ভাগিনাকে যেন কখনো আর ভয় দেখাতে না পারে।’