ফয়জুল লতিফ চৌধুরীর উপন্যাস কক্সবাজার সর্বার্থে একটি আধুনিক উপন্যাস। এ উপন্যাসের বিষয়বস্তু একুশ শতকের আধুনিক মানুষের চিন্তাভাবনা ও আচার-আচরণ । এর জন্য লেখক বেছে নিয়েছেন সমুদ্র তীরবর্তী পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার, যেখানে অপরিচিত মানুষের সঙ্গে পরিচয় অবশ্যম্ভাবী। সাধারণত দেখা যায় পর্যটক মানুষের মানসিক ট্যাবু, ইনহিবিশন সবই কিছুটা স্খলিত। এখানেও খুব একটা ব্যতিক্রম নেই। এ গল্পে বাস্তবতার সঙ্গে কল্পনার মিশ্রণ আছে কিন্তু কোনো জাদুবাস্তবতা নেই। নেই আধিভৌতিকতা বা মানুষের চিন্তাপ্রবাহ। বর্ণনার বদলে লেখক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন, যাতে অল্প পরিসরেই অনেক কথা বলা হয়ে যায়। কোনো আদর্শবাদের প্রচার নেই। লেখকের নৈতিক কোনো পক্ষপাত নেই। লেখক অনেকগুলো চরিত্রকে কক্সবাজারে নামিয়ে দিয়েছেন। কেউ স্থানীয়, কেউ পর্যটক। তাদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উপন্যাসের অবয়ব গড়ে উঠেছে। এ উপন্যাসে কোনো প্লট নেই যেমন থাকে ক্ল্যাসিক উপন্যাসে। প্রচলিত অর্থে কোনো নায়ক নেই । ইফতেখারকে প্রধান চরিত্র বলা যায় যে চাকরি ছেড়ে দিয়ে কিছুদিনের জন্য কক্সবাজারে এসেছে যে জীবন দোয়েলের ফড়িঙ-এর তার দেখা পেতে। অল্প পরিসরে নানা আকর্ষণীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে পাঠক যে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করবেন তা একদিকে মনোগ্রাহী, অন্যদিকে রোমাঞ্চকর।