ইতিহাস ঘটনা লিখে রাখে। কিন্তু ঘটনার গহনাখুলে অন্তরের গহীন অন্ধকারে প্রস্ফুটিত কাঁটা ও গোলাপের সন্ধানের নাম কবিতা। থিতিয়ে আসা জুলাইয়ের প্রাক্কালে বাংলার রক্তে রঞ্জিত পথে যে সব স্বপ্ন, সাপ ও বিষাক্ত নীল লাশেরা শুয়ে আছে- সে নীল রক্তের বুদবুদে গাঁথা ‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’।
‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’ জেন-জি চর্চিত, বহু বিবৃত বাংলার গণ-মানুষের বিপ্লব-বিদ্রোহের ন্যারেটিভকে, বিপ্লবের ধারণাকে ইতিহাসের নিরিখে, নিক্তিতে চ্যালেঞ্জ করে। সচেতনভাবে, ‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’ জুলাই বিপ্লবের ধারণাকে-বাংলার ১৩০০ বছরে অনির্বাণ জনতার শাসনের অভিপ্রায়, কৃষাণ-শ্রমিক-ছাত্র-নিম্নবর্গ-নিপীড়িতের নিয়মিত বিরতির বিদ্রোহ, অভ্যুত্থান, আন্দোলন, রক্তাক্ত আহুতিকে- বাইবেল বর্ণিত seven sleepers ও কোরানে বর্ণিত আসহাবে কাহাফের ধারণার সাথে তুলনামূলক পাঠ আহবান করে। একইসাথে ঐতিহাসিক বুলঘকপুরের চরিত্রকে একটি সমকালীন, ভুল লক্ষ্যের, ভুয়াতন্ত্রের আমলাবাদী শহুরে শয়তানি হিসেবে চিহ্নিত করে।
‘ক্লান্ত আগ্নেয়গিরি, আবার ঘুমাও’ ক্ষমতাকেন্দ্রিক সুবিধাবাদের বিপরীতে জনতার শ্বাস ও আশাবাদে বিশ্বাসের কবিতাকল্প।