বইটির প্রথম ফ্ল্যাপ থেকে নেওয়া
কমলাসুন্দরী অপরূপা। রূপ যার প্রধান শত্রু। যার কটাক্ষে, ভঙ্গিতে, রহস্যে রূপের বিস্তার, শতচ্ছিন্ন দারিদ্র্য ছাপিয়ে একটি গ্রামের অঞ্চলে অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে যার রূপ, সে-ই কমলা, যে বড় হয়েছে রানী কমলার কাহিনী পড়ে। আশ্চর্য কমলার চরিত্র! প্রভাবশালী, গ্রামের অন্যান্য যুবকদের হাতছানি উপেক্ষা করে হিন্দু হয়েও প্রেমে পড়ে হতদরিদ্র এক মুসলমান ছেলের। সেই সর্বনাশা রূপরাক্ষসী একদিন কমলাকে টেনে নিয়ে যায় কোন অন্ধকারে, কেউ তা জানে না। গাঙের জলে ভেসে ওঠে লাশ। উপন্যাসের শুরু সূর্য অস্ত যাওয়ার মুহূর্ত থেকে, যার লাল রক্তবর্ণ আলোর পথ ধরে ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণ সজ্জিতা, বর্ণাঢ্য কমলা সুন্দরী।
উপন্যাসটি একরৈখিক নয়। বিভিন্ন মানুষের জীবন নিয়ে খণ্ড খণ্ড ছোট পর্ব এতে বিদ্যমান ফলে বিভিন্ন জায়গায় নানা বিস্তারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অহেতুক উপন্যাসকে দীর্ঘ করার প্রবণতায় না গিয়ে একে সীমিত রাখা হয়েছে। পেঁচা-বুড়ি প্রতিটি ঘরে- বাইরের আঙিনায় আছড়ে পড়ে পড়ে জানায় কমলা অথবা তার প্রেতাত্মার ফিরে আসার বর্ণনা। স্তব্ধ হয়ে যায় গ্রামবাসী। সাপের মতো রক্তের কুণ্ডলী ছড়ানো আলোকে নিভিয়ে সূর্য অস্ত যেতেই উপন্যাসটির সমাপ্তি ঘটে।