‘তুমি অধম—তাই বলিয়া আমি উত্তম না হইব কেন?’ বাংলা সাহিত্যের অবিসংবাদিত এক প্রেরণা-বাক্য। কোথা গেলে মেলে তার দেখা? কিংবা সমুদ্রের তীরে জনহীন প্রান্তর। গা ছমছম পরিবেশ, শ্বাপদসংকুল জল-জঙ্গলের মাঝে এক ষোড়শীর আকুল প্রশ্ন, ‘পথিক, তুমি কি পথ হারাইয়াছ?’ সে-কী শুধুই নবকুমারের উদ্দেশে? বাংলা সাহিত্যের প্রথম রোমান্টিক উপন্যাস। শ্রেষ্ঠাংশে—নবকুমার, কাপালিক, পদ্মাবতী এবং নাম-ভূমিকায় কপালকুণ্ডলা স্বয়ং। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর কীর্তি। গ্রন্থাকারে যার আবির্ভাব ১৮৬৬ সালে। মানুষের মনস্তত্ত্ব ও প্রকৃতির সঙ্গে মানব সম্পর্কের রূপ-রূপকের আশ্রয়ে রচিত অনন্য-সাধারণ এক উপন্যাস। কাব্যে, রোমান্টিসিজমে, সুভাষিত উক্তিতে আজও তুলনারহিত। তুমুল জনপ্রিয়। অক্ষয়চন্দ্র সরকার যথার্থই লিখেছেন, ‘এই (কপালকুণ্ডলা) উপন্যাসখানি প্রকাশিত হওয়া মাত্র বঙ্কিমচন্দ্রের যশোরাশি চারিদিকে বিকীর্ণ হয়ে পড়ল।’ এরপর গদ্যশিল্পী হিসেবে পেছনে ফিরে তাকাননি বঙ্কিমচন্দ্র। আখ্যানসাহিত্যের প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করে ঋণী করেছেন, লাবণ্যময় মানবিক সাহিত্যের সৃজনে সমৃদ্ধ করেছেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে।