এভাবে বিদায় নিতে হবে শাহিনুরের তা জানা ছিলো না। টানা সাতদিনের পালা ছিলো হাজীপুরের প্যান্ডেলে। আসলে এটাই শাহিনুরের নিয়তি। জীবন প্রবাহে ভেসে চলা যাত্রাদলের এক নর্তকী সে। পৃথিবীতে আপন বলতে তার আর কেউ নেই। আজ এখানে, কাল ওখানে। নিত্যনতুন মানুষের মনোরঞ্জন করাই তার কাজ। হাজীপুরের দিনগুলো পৌষ বিকেলের মতো ভালো করে দেখবার আগেই ফুরিয়ে গেলো।
অধিকারীর নির্দেশে যখন বিদায়ের আয়োজন চলছিলো তখনও শাহিনুরের কোনো ভাবান্তর হয়নি। এমনকি নৌকায় আরোহনের সময়ও নয়। কিন্তু নৌকা ছেড়ে আসার খানিক পরে তার ভেতরে এক অসীম শূন্যতা হাহাকার করে ওঠে। সেই সন্ধ্যার গাঢ় অন্ধকারে তার কলজে ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে প্রাণের মানুষ বদির সাথে আর দেখা হবে না। তার ইচ্ছে হয় চিৎকার করে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়তে।