গতকাল সন্ধ্যায় আমার মা মারা গেছেন। আজ সন্ধ্যা অব্দি তাঁকে সমাহিত করা হয়নি একটাই কারণে, আমরা বাবার জন্য আপেক্ষা করছিলাম। মা'র মৃত্যুর পর গতরাতের গভীরে সবার উচ্চকিত ক্রন্দন যখন থিতিয়ে এসেছে, নেমে পড়েছিলাম পথে, খুব সন্তর্পণে, মৃত বাড়ির আলুথালু বিপন্নতা পেরিয়ে। কেন যে আমি গলা ছেড়ে না কেঁদে ওরকম একটি কাজ করেছিলাম, এখন পর্যন্ত এর মর্ম উদ্ধার করতে পারিনি।
কেবল অনুভব করছিলাম চারপাশের আর্তনাদমিশ্রিত আতরের ঘ্রাণ আমার মস্তিষ্কের কোষে কোষে অসহ্য শীত ঢুকিয়ে দিচ্ছে। নিঃশ্বাস আটকে আমার মৃত্যু দশা হতে শুরু করলে খাটিয়ায় রাখা মা'র মৃতদেহ পাশ কাটিয়ে ঢেউ খেতে খেতে রাস্তায় গিয়ে পড়েছিলাম। আমার মা মারা গেছেন বলে পাড়ায় কারও বাড়ির বাতি জ্বলা বন্ধ ছিলো না। লম্বা নির্জন গলিটার মধ্যে কয়েকটি আঁধার বৃক্ষ ছিলো। কিছুক্ষণ নিঃশব্দ হেঁটে আমি সেই বৃক্ষের নিচে দাঁড়িয়ে ওপর দিকে তাকাই।
শীতের থুথুড়ে বাতাস আবছা আধো ছায়ায় পাক খেতে খেতে আমার সমস্ত রোমকূপে অসহ্য কম্পন ঢুকিয়ে দেয়। এতোক্ষণে টের পাই, আমার শরীরে খুব পাতলা একটা কাপড় লেপটে আছে। আমি গভীর নির্জন রাতে হু হু শীতে কাঁপতে কাঁপতে দূর থেকে দেখছিলাম আমাদের বাসাটি, যেখানে কুয়াশাবাতির নিচে নিশ্চল শুয়ে আছেন আমার মা।