রিক্সা থেকে দৌড়ে যেয়েও ট্রেনটা ধরতে পারলোনা রাশেদ। 'একতা এক্সপ্রেস' বড্ড পাঙ্কচুয়াল। একটু এদিক-ওদিক হলেই মিস। শীতের সকালে সূর্য উঠারও পূর্বে ঘন কুয়াশার মধ্য দিয়ে ধরতে হয় সে ট্রেন।
পরবর্তী ট্রেনের অপেক্ষা করলে ঢাকায় পৌঁছে অফিস করা যাবে না আজ। তাই কোষ্টার ধরে ঢাকায় যাবার জন্য মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয় রাশেদ। এককাপ চায়ের অর্ডার দিয়ে ওয়েটিং রুমে ঢুকলো সে। কিন্তু কোন আসনই খালি নেই। রাতের ট্রেনগুলোর যাত্রীরা বাহিরের প্রচণ্ড শীত থেকে রক্ষা পাবার জন্য ভীড় করেছে ওয়েটিং রুমটিতে। একটি ছোট মেয়ে চেয়ার ছেড়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কথায় বললো, -আপনি এখানে বসুন। আমি দিদিমার কোলে বসছি।
রাশেদ কিছু বলার পূর্বেই পাশের চেয়ারে বসা এক পৌঢ়া বলে উঠলেন, -বসো বাবা, বসো। বৃদ্ধা ও ছোট্ট মেয়েটির দিকে আরেকবার তাকিয়ে বসে পড়লো বাশেদ। মাথা নীচু করে ভাবতে থাকে সে-অনেকদিন পর সেই মুখ, চোখ, নাক আজ তার চোখের সামনে। চুলগুলোও তেমনি কোকরানো।