করোনার সময়ে মহামারিই ছিল নির্মমতম বাস্তবতা। মৃত্যু ও শোকের প্রবাহে কোনোভাবেই তাকে এড়ানোর উপায় ছিল না। তখন মানুষ ভাবতে শুরু করেছিল, মহামারি বদলে দেবে পৃথিবীকে। বিশ্বব্যবস্থা থেকে শুরু করে মানুষের সম্পর্ক, বিশ্বাস, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব—অনেক কিছু।
কিন্তু তিন-চার বছর বছর গড়াতে না গড়াতে, খোদ মহামারিকেই ভুলে গেল মানুষ। অস্বাভাবিকতা থেকে স্বাভাবিকে প্রত্যাবর্তনের এক বিস্ময়কর মানবীয় ক্ষমতা মহামারিকে স্মৃতির অতলে নিয়ে গেল। বিপুল বিপর্যয়কেও মানুষ আত্মস্থ করে নিল হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো।
কীভাবে ভাতৃঘাতি একের পর এক যুদ্ধ নিউ নরমাল থেকে মানুষকে নরমালে ফিরিয়ে দিল? কীভাবে শহর থেকে হারিয়ে গেল একেকটি স্মৃতিচিহ্ন?
মাহবুব মোর্শেদের ‘ক্যান্ডি ফ্লস’ উপন্যাসে এমন অনেক স্মৃতিচিহ্নের কথা লেখা হলো, যা মহামারির পর বেমালুম হারিয়ে গেছে। কিন্তু সেসব কোনো হাহাকারের গল্প তৈরি করেনি।
ক্রমপরিবর্তনশীল জীবনে পরিবর্তনই হয়তো সত্য। কিন্তু স্মৃতিতে কি কিছুই থাকবে না?
তাই ঘরবন্দি মানুষের সেই অব্যক্ত ও বিস্মৃত কথাগুলো এই উপন্যাসে লেখা হলো। আপনার গল্পও হয়তো এখান থেকেই শুরু হবে।