প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা দিলো অযৌক্তিক ঈর্ষা, ঘৃণা, সন্দেহ, বিতৃষ্ণা। সেসব-কিছু বুঝতে পারলেও যুক্তির পূর্বনির্ধারিত পথে এগুলো ঘটছিল না। অ্যালেন বুঝতে পারছিল না মৈত্রেয়ী এর আগে কাউকে মন সমর্পণ করেছে কি না। কিন্তু সে ইতোমধ্যেই তার কামনা-বাসনার কাছে আত্মসমর্পণ করে ফেলেছে। সে ধর্মান্তরিত হবার চিন্তাও করতে শুরু করেছে। মৈত্রেয়ী হয়ে দাঁড়াল তার একমাত্র কামনার ধন, ক্লান্তির আশ্রয়।
তাঁদের এই ঘনিষ্ঠতার কথা কিন্তু গোপন রইল না। নরেন্দ্র সেন অ্যালেনকে বিতাড়িত করলেন এবং এমন ব্যবস্থা করলেন যাতে দুজনের মধ্যে কোনো যোগাযোগ রাখা সম্ভব না হয়।
কিন্তু এভাবে সব কিছু শেষ করে দেওয়া সম্ভব হলো না। অ্যালেনের সঙ্গে মিলিত হবার জন্য মৈত্রেয়ী এক বিপজ্জনক পথে পা বাড়ালো। এদিকে অ্যালেনের মন তখন দুভাগে বিভক্ত। একদিকে তাঁর মৈত্রেয়ীর কষ্টের জন্য নিজেকে দায়ী করার চিন্তায় প্রচণ্ড অনুশোচনা, অসহায়তা; অপরদিকে অবিশ্বাস, সন্দেহ, ক্রোধ। সে আপাত শাস্তি খোঁজার জন্য আগের ক্ষণিকের সঙ্গিনীদের কাছে আত্মসমর্পণ করল। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার, এর ফলে তাঁর হারানো ভালোবাসার প্রতি মমতা, আনুগত্য বিস্ময়করভাবে প্রখরই হয়ে উঠল এবং সে তীব্র হতাশায় ভেঙে পড়ল।
অ্যালেন তাঁর প্রখর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, অনুভূতির তীক্ষ্ণতা দিয়ে সুচারুভাবে জাগিয়ে তুলেছিল মৈত্রেয়ীর মনোজগৎ। সে জগৎ ছিল একাধারে অনুভূতির, কাব্যময়তার, যুক্তি-বিজ্ঞানের, দর্শনের, ধর্মের এবং তার সঙ্গে মিশ্রিত হয়েছিল মানসিক এবং শারীরিক প্রেম- চরম এবং দুর্বার। মৈত্রেয়ী এমনই একটা নারীচরিত্র যাঁকে ভুলে যাওয়া সহজ নয়।