সকাল থেকে মজিদ সাহেব একনাগাড়ে লিখে চলেছেন। লিখতে বসলে কোনো কিছুতে তার হুশ থাকে না। আজও তার তাই হয়েছে। একবার কোনো চিন্তা মাথায় ঢুকলে সেটি কলমের ডগা দিয়ে বার না করা পর্যন্ত তিনি স্বস্তি পান না। মাথাটা কেমন যেন ভার হয়ে থাকে তার। চিন্তাগুলো মাথার ভেতর গিজগিজ করে। যদি মাথা ফাঁটিয়ে বের করার কোনো উপায় থাকত তাহলে তিনি তাই করতেন। এ চিন্তাটা তার যে কখনও হয়নি তা কিন্তু নয়। এটা যদি করা যেত তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে তার একটা সমস্যার সমাধান পাওয়া যেত। কিন্তু সেটি হবার নয়।
তার থেকে নিস্তার পাওয়ার একটা পথই খোলা রয়েছে সেটি হল কাগজ কলম নিয়ে বসে পড়া। তাও আবার সবসময় হয়ে ওঠে না। অভাবের সংসার, মাথার চিন্তার চেয়ে পেটের ক্ষিদের জ্বালা বেশি। ইচ্ছে করলেও পেটের খিদেকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। ফলে একবেলা খেতে গিয়ে তাকে আর বেলার চিন্তা করতে হয়। সে চিন্তাটা আরও ঘন হয় যখন স্ত্রী আলেয়া বেগম কানের কাছে এসে পেনপেন করেন নানারকম অভাবের কথা বাতলে দেন।