খুব ছোট্ট বয়সে বাবার থেকে বই পড়ার অভ্যাসটা পেয়েছিলাম। এরপর সে অভ্যাস ঠিক কখন কীভাবে লেখালেখির দিকে নুয়ে আসতে চেয়েছে সে আমি জানি না। তবে দু'চারটে অনুবাদ আর এই একটি ছোট্ট উপন্যাসিকা লেখার পর নিজেকে লেখক দাবি করার ধৃষ্টতাও আমি দেখাব না। আমার কাছে সবসময় মনে হয় লেখার চেয়ে পড়াটা বেশি জরুরি। যারা প্রচুর পড়েন তারা চাইলেই কখনো লেখতে পারেন। আরেকটি দল আছে যারা লেখার ঊর্ধ্বে চলে যান। উদাহরণ দিলে আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু বইটির কথা বলতে হবে। সেখানে তিনি বলেছিলেন, রাজ্জাক স্যারের জন্য আমার আর পিএইচডি করা হলো না। সেই না হওয়া পিএইচডির কারণ ছিল সেসময়কার জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক স্যার আহমদ ছফা'কে এতো বেশি পড়িয়ে নিয়েছিলেন যে তিনি শেষটায় নিজেকে সামান্য একটা পিএইচডির থিসিস পেপারের ঊর্ধ্বে বলে ভাবতে শুরু করেছিলেন। আহমদ ছফার সাথে আমার আদর্শগতভাবে অমিল থাকলেও এই একটি কারণে আমি তাকে প্রচণ্ড শ্রদ্ধা করি। যেমন শ্রদ্ধা করি সেই সব পাঠকদের, যারা লেখার উর্ধ্বে চলে গিয়েছেন।