চাঁদে জমির দাম কত আমার ধারণা নেই, কিন্তু গুলশানে এক বিঘার মূল্য নাকি এক শ' কোটি। মাশাল্লাহ! তবে চাঁদে যেতে আমার রকেট লাগত, আর এখানে এসেছি সাইকেলে। তফাত রকেটে আর সাইকেলে। তবে দুটোই মেড ইন ইউএসএ। রকেট কোম্পানি লকহিড মার্টিন, সাইকেল ট্রেক। আমি র্যাপিডো পার্সেল কোম্পানির ম্যাসেঞ্জার। যারা অন লাইন শপিং করেন আমি তাদের ঘরে সেটা পৌঁছে দিই। র্যাপিডো আমাকে সাইকেল দিয়েছে, হেলমেটটাও। নিজের বলতে শুধু দু শ' টাকার নকল রেবান।
ভারী এক পার্সেল নিয়ে আমি এসেছি বিদিশার ফ্ল্যাট বাড়িতে। এটাকে আলিশান ফ্ল্যাট-বাড়ি বললেও এর বেইজ্জতি হয়, তাই সুরম্য অট্টালিকা বলাই ভালো। যার গায়ে মেয়েদের গালের মতো সানস্ক্রিন, তাতে সূর্য লেগে চকচক করছে। 'চকচক করিলেই সোনা হয় না' প্রবাদ আছে, কিন্তু আমি হলফ করে বলতে পারি বিদিশা সোনার চেয়েও দামি ফ্ল্যাটে থাকেন। সাইকেলে তালা মেরে পার্সেল বয়ে ভেতরে যাই। আমাকে দেখে মিলিটারি পোশাকপরা গার্ড আওয়াজ দেয়, জনাব এই দিকে... আমি রিসেপশনে যাই। পার্সেল দেখিয়ে কথা বলি। সে ইন্টারকম তোলে।