কৃষ্ণপক্ষের মধ্যরাত। গাঢ় অন্ধকারের অতলে নিমজ্জিত অরণ্য ঘনিষ্ঠ লোকালয়ের নিভৃত কুটিরে ব্রহ্মার মতো সৃষ্টি সাধনায় ধ্যানমগ্ন এক ক্রান্তদর্শী অখ্যাত গ্রন্থিক। উদ্দেশ্য তার, জন্মান্তরের সৃষ্টি সাধনায়; বিধাতার বরে অর্জিত ক্রান্তদর্শী শক্তির আধারে কালজয়ী আখ্যান গ্রন্থনা। কিন্তু সূচনাতেই সংশয় আর অক্ষমতায় ভারাক্রান্ত সেই গ্রন্থিক। সৃষ্টির আদি থেকে আজ অবধি যে আঁধারে ডুবে আছে এই জগৎ চরাচর, যে আঁধার রাহুর মতো বারবার গিলে খায় স্বপ্নবান মানুষের সাধের পূর্ণচাঁদ; কী রং সে নিকষ আঁধারের?
গৌরব প্রথমাঙ্কের বিপরীত রূপক অলংকার কলঙ্কের মতো কালো? নাকি অনাদি সত্যধর্মের আড়ালে অনাচারী অধর্মের মতো নিকষ কালো তার দৃশ্যমান রূপ? বিবৃতি কিংবা গ্রন্থনায় তার সমগোত্রীয় উপমা খুঁজে পায় না নিভৃত কুটিরে ধ্যানমগ্ন সেই অখ্যাত গ্রন্থিক। তবে কী প্রকারে সূচনা হবে তার ঈপ্সিত আখ্যানকাব্যের গ্রন্থনা? ক্রান্তদর্শী বরের বিপুল সামর্থ্যে দৃশ্যমান তেমনি জাগতিক এই অন্ধকারের স্বরূপ বর্ণনায় অক্ষম যে গ্রন্থিক; সে কী প্রকারে হবে কালজয়ী অমর আখ্যানের স্রষ্টা?