একাকিত্বের করুণ অনুভূতি আমার হৃদয়ে প্রথমবার দগদগে ক্ষত তৈরি করলোড়যেদিন শিউলিরা এই বাসাটা ছেড়ে চলে গেলো। শুধু যে শিউলি-শান্তরা চলে গেলো এমন না, সাথে নিয়ে গেলো আমাদের আশৈশব হেঁটে বেড়ানো পড়ন্ত বিকেল, কদম গাছের ছায়ায় বসে কতশত গল্প, পথে-প্রান্তরে ছুটে চলা, ডুবতে বসা সন্ধ্যায় নদীর তীর ধরে বাড়ি ফেরা, মায়াময় স্মৃতি কুড়াতে কুড়াতে- একসাথে বড়ো হওয়া- সব নিয়ে গেল।
দরজায় দাঁড়িয়ে মা যখন ওদের চলে যাওয়া দেখছিলো, তখন আমি বিছানার নিচে জড়সড়ো হয়ে লুকিয়ে আছি, যেন কেউই আমার অস্তিত্ব টের না পায়। ভেতরে ভেতরে অস্তিত্বের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া আমাকে প্রচণ্ড আঘাত দিচ্ছিলো। শিউলি এসে খুঁজে গেলো, 'আন্টি, রাহুল নাই বাসায়?'
মা বললো, 'অনেকটা সময় ধরেই তো ঘরে নাই। আমি ভাবলাম তোমাদের ঘরে কি না। কই যে গেলো!'
শিউলি-শান্ত যখন আমার অপেক্ষায় দ্বিধান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো দরজায়- তখন ওদের বাবা মা অপেক্ষা করছে নতুন কেনা নীল রঙের প্রাইভেটকারে। পুরো সংসারটা মোটা দড়ি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দেয়া হয়েছে হলুদ রঙের বিশালাকৃতির ট্রাকে।
নতুন কেনা গাড়ি, ভাড়ায় নেয়া ট্রাকে বাঁধা বিশ বছরের সংসার যখন অপেক্ষায় শিউলি-শান্তর জন্য, তখন আমি পাগলের মতো কান্না করে চলছি বিছানার নিচে।
আমার সে অসহায় নিঃশব্দ আর্তচিৎকার- শেষমেশ কি পৌছায় দরজা পর্যন্ত?