একটা সংসার কি শুধু ইট, কাঠ আর দামি আসবাবে তৈরি হয়? নাকি সংসার তৈরি হয় দুটো মানুষের অপেক্ষা, অভিমান, ক্ষমা আর ফিরে আসার গল্পে?
আরাফ চৌধুরীর জীবনে অর্থের অভাব ছিল না। ছিল না কোনো বিলাসিতার ঘাটতি। অথচ তার সবচেয়ে দামি জিনিসটিই একদিন তার হাতছাড়া হয়ে গেল—তার সংসার।
তিশা ভালোবাসা চেয়েছিল। আরাফও ভালোবাসত, ঠিকই। তবে কালের পরিক্রমায় ভালোবাসার সেই সংজ্ঞা তার কাছে বদলেছে, বদলেছে আরাফ নিজেও। দামি উপহার, বিলাসী জীবন আর নিরাপদ চার দেয়ালের ভেতর সে যে সম্পর্কটাকে আগলে রাখতে চেয়েছিল, তিশার কাছে সেই চার দেয়ালই একসময় হয়ে উঠেছিল বন্দিত্বের আরেক নাম।
তারপর একদিন ভেঙে গেল সবকিছু। ভালোবাসার মানুষ দুজন হয়ে গেল দুই প্রান্তের যাত্রী। একজন হারাল তার অহংকার, আরেকজন হারাল তার নিশ্চিন্ত পৃথিবী। আর এরই মধ্যে আরাফ জড়িয়ে পড়ল কর্পোরেট জগতের ক্ষমতার খেলা, ষড়যন্ত্র আর বিশ্বাসঘাতকতার এক অন্ধকার জালে। একে একে খসে পড়তে লাগল তার চেনা পরিচয়, নিরাপত্তা, আশ্রয়—এমনকি নিজের ওপর বিশ্বাসটুকুও।
বিচ্ছেদের সেই দীর্ঘ অন্ধকারে আরাফ প্রথমবার নিজের মুখোমুখি দাঁড়াল। বুঝতে শিখল, মানুষ তার সম্পদ দিয়ে বড় হয় না, বড় হয় তার সম্পর্ক দিয়ে। আর ঘর কখনো শুধু ইট-পাথরের হয় না; ঘর তৈরি হয় মানুষ দিয়ে।
মেঘ মৃত্তিকার সংসার মূলত সেইসব মানুষের গল্প, যারা ভালোবাসে, ভুল করে, বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়, হারিয়ে যায়, আবার ফিরে আসে।