মজনু ফুটপাত ধরে খুব জোরে হাঁটছে। অবশ্য হাঁটছে বললে ভুল বলা হবে। ও রীতিমতো দৌড়াচ্ছে। যদিও হাঁটা বা দৌড়াবার মতো শারীরিক শক্তি ওর নেই। যে কোন মুহূর্তে মাথা ঘুরে ধপ করে পড়ে যাবে ও। তবু মজনু দৌড়াচ্ছে। ওর দৌড়াবার কারণ যে হোটেলে সে বাকি খায়, হোটেল তজুমদ্দিন, সেটা বন্ধ হবার সময় প্রায় হয়ে গেছে। আর বন্ধ হয়ে গেলে আজও না খেয়ে থাকতে হবে মজনুকে। গত তিন দিন ধরে ও পানি ছাড়া আর কিছুই খায়নি। হোটেল তজুমদ্দিন এর মালিক সামছু মিয়া বেশ কিছু টাকা পায় মজনুর কাছে। তারপরও ওকে বাকি দেয় সামছু মিয়া।
কারণ আগের পাওনা উঠাতে গেলে বাকি তাকে চালাতেই হবে। মজনু হোটেল তজুমদ্দিন এর সামনে এসে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো শার্টারের দিকে। শার্টার নামানো। তার মানে হোটেল তজুমদ্দিন বন্ধ। মজনু হাঁপরের মতো হাঁপাতে লাগলো। দৌড়ানোর কারণে ওর শরীরের লাগলে অনেকখানি শক্তি ক্ষয় হয়ে গেছে। মজনু শার্টারের দিকে এগিয়ে গেলো। শার্টারে হেলান দিয়ে খানিকটা শক্তি সঞ্চয় করে নিতে চাইলো।