'মাইয়া মানুষের এত তেজ ভালো না, এত্ত তেজ ভালো না' — বলতে বলতে আধ খোলা লুঙ্গি কোমরে প্যাঁচাতে প্যাঁচাতে আনসার আলী বারান্দা থেকে নেমে হনহন করে হাঁটতে হাঁটতে অন্ধকারে মিশে যায়। এদিকে ঘর থেকে একের পর এক জিনিসপত্র ফেলতে থাকে মেহেরজান আর চিৎকার করে বলতে থাকে- 'কম্মের খবর নাই, আকামের গোশাই।' রাত তখন এগারো কি বারোটা হবে। পৌষের রাত।
খুব শীত বাইরে। গোটা দুই পুরনো চেয়ার, মাটির কলসি, এক-দুটি পাতিল, থালা-বাসন, মগ- সব ঘর থেকে আছাড় মেরে মেরে উঠোনে ফেলে মেহেরজান। এখন ক্লান্ত সে, শীতের রাতেও তার কপালে জমেছে বিন্দু বিন্দু ঘাম। বেশ আগেই আনসার আলীর বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। কিন্তু বয়সের তুলনায় তার শরীর ভেঙে গেছে আরও বেশি। বাবা-মরা সংসারের হাল ধরেছে সে সেই কিশোর বয়সে। সংসারে লোক বলতে আছে বৃদ্ধ মা, সে, আর দূর সম্পর্কের কিছু আত্মীয়-স্বজন।