মানুষ নানা কারণেই মিথ্যা বলে। মিথ্যার বাইরে যাওয়া এই সময়ে সহজ নয় আর। সেই মিথ্যার আবার নানা ধরন আছে। প্রতিদিনের জীবনে আমরা খুব তুচ্ছ কারণে, এমনকি সৌজন্যের খাতিরেও, মিথ্যা বলি। এই মিথ্যা হচ্ছে আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনের মন্দের মূলে। শুধু মিথ্যা নিয়েই এই বইয়ে কথা বলেছেন মার্কিন দার্শনিক ও স্নায়ুবিজ্ঞানী স্যামুয়েল বেনজামিন হ্যারিস। মিথ্যাকে তিনি এখানে দেখেছেন সমাজ ও মনস্তত্বের নিগূঢ় প্রেক্ষাপটে। মাত্র একটি প্রবন্ধ নিয়ে একটি বই। সংক্ষিপ্ত, কিন্তু সুদূরপ্রসারী এই বই ব্যক্তিজীবনের সারল্য এবং সমাজজীবনের উন্নয়নের পথে প্রধান বাধাটিকে আমাদের সমকালীন জীবন, সময়, সমাজ, রাষ্ট্র ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে। এই বই দ্রুত পড়ে নেওয়া যায়, কিন্তু এর প্রভাব দ্রুত ফুরায় না। আমাদের জীবন ও মিথ্যার ওপর আলোকপাত করে এই বই। এই বই এই সময়ের অসত্যের ওপর গভীর অভিনিবেশ। এই বই ধনকুবের ইলন মাস্কের প্রিয় বইগুলোর একটি। বহু বছর আগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সত্য’ প্রবন্ধে বলেছিলেন, ‘মিথ্যাপরায়ণ বাঙালি তবে কি বাস্তবিক সত্যের জন্য সংগ্রাম করিবে!’ এই অনুবাদও সেই আকাঙ্ক্ষা ও সংশয়ের জায়গা থেকেই করা।